যাত্রাবাড়ি-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে এবং ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কসহ সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের চালকদের মধ্যে গতিসীমা মেনে চলার প্রবণতা না থাকায় দিন দিন বেড়েই চলেছে দুর্ঘটনা।
জানা গেছে, কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই যাত্রাবাড়ি-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক ও মাদারীপুর-শরিয়তপুর মহাসড়কে চালকরা বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালাচ্ছেন। সরকারি আইন মানছেন না চালকেরা। ফলে মহাসড়কে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এতে অকালে প্রাণ হারানোসহ পঙ্গুত্ববরণ করছেন অসংখ্য মানুষ। তবে চালকদের দাবি, মহাসড়কে তিনচাকার যানবাহন এবং বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মহাসড়কগুলোতে প্রতিদিন সহস্রাধিক মোটরসাইকেল চলাচল করে। একদিকে ওভারলোড, অন্যদিকে হেলমেট ছাড়াই ইচ্ছেমতো মোটরসাইকেল চালাচ্ছে অপ্রাপ্ত বয়স্করা। ফলে ঘটছে দুর্ঘটনা।

হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘণ্টায় এক্সপ্রেসওয়েতে ৮০ কিলোমিটার, মহাসড়কে ৬০ ও আঞ্চলিক সড়কে ৪০ কিলোমিটার গতিবেগে গাড়ি চালানোর বিধি রয়েছে। অথচ দূরপাল্লার পরিবহনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলে মোটরসাইকেল। তাছাড়া অপ্রাপ্ত বয়স্করাই অতিরিক্ত গতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে থাকে। ফলে ঘটছে প্রাণহানির মতো দুর্ঘটনা। এদিকে ২০২৩ সালের মার্চ থেকে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এক বছরে এক্সপ্রেসওয়েতে ১৩৫টি দুর্ঘটনায় ১৩১ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকা-মাওয়া অংশে ৭২টি দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৬৪ জন; আহত হয়েছেন ৭৮ জন, মামলা হয়েছে ৫৭টি এবং জিডি ১৫টি। জাজিরা-ভাঙ্গা অংশে ৬৩টি দুর্ঘটনায় ৬৭ জন নিহত ও ৯৪ জন আহত হয়েছেন; মামলা হয়েছে ৫৭টি এবং জিডি ১৫টি। এরমধ্যে গত বছরের ১৯ মার্চ সড়ক দুর্ঘটনায় একসঙ্গে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটে। এক্সপ্রেসওয়ের কুতুবপুরের ওই দুর্ঘটনায় নিহত হন ১৯ জন। আহত হন আরও ২৫ জন।