1. admin@totalpost24.com : admin :
শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫১ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
শৃঙ্খলিত নগরায়ন, স্বনির্ভর রাজধানীর অঙ্গীকার রমজানে গরুর মাংসের দাম ৬৫০ টাকা নির্ধারণ করল সরকার খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন যুবদলের সাবেক সহ- সাধারণ সম্পাদক খান মনিরুজ্জামান মিলটন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন এম মাহবুবুর রহমান ভুইঁয়া বাংলাদেশে জ্যাক মোটরসের নতুন ডিস্ট্রিবিউটর র‌্যানকন ২০২৫ সালে প্রতিদিন পাঁচ লাখ ক্ষতিকর ফাইল শনাক্ত করেছে ক্যাসপারস্কি গাজীপুরে এআই প্রযুক্তিনির্ভর কারখানা চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করল অনার এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকা- এর ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প নরসিংদীতে ওয়ালটন–মার্সেলের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিমূলক ‘ডিলার মানববন্ধন’ ভুয়া ব্যানার, অজ্ঞ অংশগ্রহণকারী ও আত্মসাৎকারীদের নতুন চক্রের মুখোশ উন্মোচন

সৈয়দপুর প্লাজা মার্কেটে শতকোটি টাকার ভ্যাট ও আয়কর ফাঁকি

টোটাল পোস্ট ২৪ ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৫
  • ১৫৭ বার পঠিত

বর্তমানে সৈয়দপুর প্লাজা মার্কেট  নামে পরিচিত মার্কেটটি মূলত ছিল তৎকালীন আদমজী পাটকল। এটি গত ২২/১/২০০৩ তারিখে দলিল নং ২৬৮ মূলে পাটকলের গুদামে থাকা কয়েক কোটি টাকার মেশিন সহ নাম  মাত্র মূল্যে  এক কোটি ৩২ লক্ষ টাকায় জমিটি এস,আর,ট্রেডিং এর স্বত্বাধিকারী শামসুল হক ভূঁইয়ার কাছে বিক্রি করেন তৎকালীন পাট মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতিগ্রস্ত কিছু কর্মকর্তারা। পরবর্তীতে উক্ত জায়গায় নির্মাণ করা হয় সৈয়দপুর প্লাজা।
শামসুল হক ভূঁইয়া মূলত ছিলেন স্বৈরাচার সরকার শেখ হাসিনার অর্থ মন্ত্রী আ, ফ, ম, মোস্তফা কামাল ওরফে লোটাস কামালের অন্যতম সহযোগী, নাঙ্গলকোট জেলা আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতা ।

সৈয়দপুর প্লাজা মার্কেটটি তৈরীর শুরু থেকেই নানাবিধ অনিয়মের আশ্রয় নেন শামসুল হক ভূঁইয়া। তৎকালীন আদমজী পাট কলটির –  এস এ খতিয়ান নং ৩৪৩৬ দাগ নং ৭৭৫৪, ৭৭৫৬ মোট জমির পরিমান  তিন একর চল্লিশ শতক জায়গা মার্কেটের জন্য ক্রয় করা হলেও মূলত মার্কেটটি তৈরি করার সময় মার্কেটের পাশে সরকারি জমির উপর থাকা ১১ টি দোকান  সহ মোট  ৩.৫৯ একর জায়গা অবৈধ ভাবে  জবর দখল করে  সামসুল হক ভূইয়া,

মার্কেটটি নির্মাণকালীন প্রায় ১৯ শতকেরও অধিক সরকারি খাস জায়গা সুকৌশলে অবৈধ ভাবে   দখল করে উক্ত সৈয়দপুর প্লাজা মার্কেটটি নির্মাণ করা  হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে । উক্ত সৈয়দপুর প্লাজা মার্কেট এর এমডি সামসুল হক ভূইয়ার এস,আর,ট্রেডিং নামে যে প্রতিষ্ঠানটি রয়েছে সেটি জয়েন্ট স্টকে নিবন্ধন কৃত প্রতিষ্ঠান না হওয়া সত্বেও প্রতারণার কৌশল হিসেবে উক্ত সৈয়দপুর প্লাজা মার্কেট তথা এস,আর,ট্রেডিং কোম্পানিটি একটি রেজিষ্ট্রাড কোম্পানি বলে দিব্যি দোকান বিক্রির প্রাক্কালে প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছিলেন এবং এখনো চালাচ্ছেন, তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করার পর দেখা যায়  এস,আর,ট্রেডিং কোম্পানির ট্রেড লাইসেন্স এর সূত্রমতে  তাদের ব্যবসার ধরণ হলো একটি শপিং মলের,কিন্তু প্রশ্ন হলো উক্ত ট্রেড লাইসেন্স মূলে  প্রায়  দুই হাজার দোকান সম্বলিত ৪ তলা বিশিষ্ট এত বড় বাণিজ্যিক মার্কেট নির্মান এর জন্য   গণপূর্ত ও গৃহায়ণ অধিদপ্তর কি করে অনুমতি ও ছাড়পত্র প্রদান করেছে ? সূত্রমতে যানাযায় এখানেও সামসুল হক ভূইয়া তার আওয়ামী রাজনৈতিক পরিচিতী ও প্রভাব বিস্তার করে এই মার্কেট নির্মান করেছেন।

এ বিষয়ে  জানার জন্য  গণপূর্ত ও গৃহায়ণ অধিদপ্তরে এ প্রতিবেদক  যোগাযোগ করে  জানতে পারেন, এস,আর,ট্রেডিং কর্তৃক নির্মিত সৈয়দপুর প্লাজা মার্কেটটি নির্মাণকালীন গণপূর্ত ও গৃহায়ণ অধিদপ্তর এর কোনো প্রকার পূর্ব অনুমতি গ্রহণ করা হয়নি ও ভূমি আইনে রেজিষ্ট্রাড নির্মাণ প্রতিষ্ঠান নামে নিবন্ধন করা হয়নি। এ প্রতিবেদকের আরো অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে এস,আর,ট্রেডিং কতৃক নির্মিত  সৈয়দপুর প্লাজা মার্কেটটি রিহ্যাব এর সদস্য পদ বা রেজিষ্ট্রেশন নম্বর না পাওয়া সত্বেও তারা রিহ্যাব এর একটি ভূয়া রেজিষ্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে আসছেন যার ক্রমিক নম্বর হলো – ৬৯০/২০০৯, যা ভূমি আইনে অবৈধ কার্যকলাপ এবং সরকার ও সাধারণ দোকান মালিকদের সাথে প্রতারণার সামিল।

সূত্রমতে  আরো জানা যায় উক্ত সৈয়দপুর প্লাজা মার্কেটে শুধু মাত্র  ৩০০ টাকার নন জুডিশিয়াল স্টাম্প এর মাধ্যমে মার্কেটের প্রায় ১৪০০/ ১৫০০ টি দোকানের পজিশন বিক্রি করেন শামসুল হক ভূঁইয়া।

যার মাধ্যমে এস,আর,ট্রেডিং সৈয়দপুর প্লাজা মার্কেট এর এমডি সামসুল হক ভূইয়া ও ম্যানাজার গুলজার আহম্মেদ উভয়ের যোগসাজশে গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ  সরকারকে দীর্ঘদিন ধরে  প্রায় ৮০/৯০ কোটি টাকার ভ্যাট ও আয়কর ফাঁকি দিয়ে  আসছেন  তারা ।

এ বিষয়ে মার্কেটের শত শত ব্যবসায়ী ও দোকান মালিকরা –  অভিযোগ করে বলেন তারা ৩০ থেকে ৪০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে এক একটি দোকান কিনলেও দোকানগুলি এখন পর্যন্ত তাদের নামে সাব-কবলা দলিল রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়নি।

অনেক ব্যবসায়ী এ বিষয়ে মার্কেট কর্তৃপক্ষের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তেমন কোনো সুরাহা পাননি তারা । ক্ষেত্র বিশেষে ব্যবসায়ী সমিতির দোকানদারদের কে মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন  চাঁদাবাজি মামলা সহ আরো অনেক মিথ্যা মামলা দিয়ে  হয়রানি করা হয়েছে  বলে সূত্রমতে  জানা যায়।

ব্যবসায়ীরা আরও অভিযোগ করেন মার্কেটে লিফট দেওয়ার কথা থাকলেও তা এখনও পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। তাছাড়া পৌরসভায় জমাকৃত নকশা বহির্ভূতভাবে মার্কেটের অনেকাংশ নির্মিত হয়েছে  বলেও সূত্রমতে জানা যায়।

প্রায় ১৪০০/১৫০০ দোকানের পজিশন হস্তান্তরের ক্ষেত্রে ক্রেতা বিক্রেতার বিপুল অংকের টাকা লেনদেন হলেও মাত্র ৩০০ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পের মাধ্যমে দলিল সম্পাদন হওয়ায় সরকার  বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় থেকে  বঞ্চিত হলো এবং বিপুল পরিমাণ সরকারি রাজস্ব  হারালো ।

এ বিষয়ে জানার জন্য এ প্রতিবেদক, এস,আর,ট্রেডিং, সৈয়দপুর প্লাজা মার্কেট এর এমডি সামসুল হক ভূইয়া সাথে  কথা বলতে শামসুল হক ভূঁইয়া এর মুঠোফোনে  একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।পরবর্তিতে বিষয়ে মার্কেট দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা ম্যানেজার গুলজার আহমেদ এ প্রতিবেদককে  মুঠোফোনে  বলেন ক্রেতাদের দলিল এখনো রেজিস্ট্রি করা হয়নি আমরা শুধুমাত্র তিনশত টাকার ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্পের মাধ্যমে দোকান এর  পজিশন হস্তান্তর করেছি।

সৈয়দপুর প্লাজায় শত কোটি টাকার ভ্যাট ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে আমলে নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট একাধিক  দপ্তর মিলে উক্ত এস,আর,ট্রেডিং কর্তৃক নির্মিত সৈয়দপুর প্লাজা মার্কেটটি নিয়ে

অধিক  তদন্ত করলে সরকার শতকোটি টাকার রাজস্ব আদায় করতে  পারবে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।
এ বিষয়ে অনুসন্ধান চলমান।

বিস্তারিত পরবর্তী পর্বে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর