1. admin@totalpost24.com : admin :
শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩২ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
শৃঙ্খলিত নগরায়ন, স্বনির্ভর রাজধানীর অঙ্গীকার রমজানে গরুর মাংসের দাম ৬৫০ টাকা নির্ধারণ করল সরকার খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন যুবদলের সাবেক সহ- সাধারণ সম্পাদক খান মনিরুজ্জামান মিলটন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন এম মাহবুবুর রহমান ভুইঁয়া বাংলাদেশে জ্যাক মোটরসের নতুন ডিস্ট্রিবিউটর র‌্যানকন ২০২৫ সালে প্রতিদিন পাঁচ লাখ ক্ষতিকর ফাইল শনাক্ত করেছে ক্যাসপারস্কি গাজীপুরে এআই প্রযুক্তিনির্ভর কারখানা চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করল অনার এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকা- এর ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প নরসিংদীতে ওয়ালটন–মার্সেলের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিমূলক ‘ডিলার মানববন্ধন’ ভুয়া ব্যানার, অজ্ঞ অংশগ্রহণকারী ও আত্মসাৎকারীদের নতুন চক্রের মুখোশ উন্মোচন

নিবন্ধনহীন কোম্পানির নামে সৈয়দপুর প্লাজায় দোকান বিক্রি: এস.আর. ট্রেডিং-এর বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি

টোটাল পোস্ট ২৪ ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
  • ৩২৬ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

অবৈধভাবে দোকান বিক্রির অভিযোগ :-

সৈয়দপুর প্লাজার ব্যবসায়ী ও দোকান মালিকদের অভিযোগ অনুযায়ী, এস.আর. ট্রেডিং নামক একটি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে নিবন্ধন ছাড়াই অবৈধভাবে দোকান বিক্রির কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি জয়েন্ট স্টক কোম্পানিতে নিবন্ধিত নয়, তবুও মাত্র ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে দোকানের পজেশন হস্তান্তর ও বিক্রির কার্যক্রম পরিচালনা করেছে, যা বাংলাদেশের ভূমি আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ এবং স্পষ্টতই প্রতারণার শামিল।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এস.আর. ট্রেডিং-এর চেয়ারম্যান মোঃ হোসেন ভূঁইয়ার ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ :-

২০০৩ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত মোঃ হোসেন ভূঁইয়া, এস.আর. ট্রেডিং-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার সময়ে প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মী নিয়োগসহ দোকান বিক্রি ও ব্যবসায়িক নীতিমালা প্রণয়নসহ সব কার্যক্রম পরিচালনা করে।

তবে বিতর্কের বিষয় হলো, ওই সময় শামসুল হক ভূঁইয়া এমডি হিসেবে মোঃ হোসেন ভূঁইয়ার সঙ্গে যৌথ স্বাক্ষরে সৈয়দপুর প্লাজার শত শত দোকান মাত্র ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে বিক্রি করেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, যদি শামসুল হক ভূঁইয়া প্রকৃতপক্ষে প্রতিষ্ঠানটির একক মালিক হয়ে থাকেন, তাহলে শুরু থেকেই কেন মোঃ হোসেন ভূঁইয়া চেয়ারম্যান হিসেবে স্বাক্ষর করতেন?

এতে ব্যবসায়ী মহলে ব্যাপক সন্দেহ ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।

শামসুল হক ভূঁইয়ার একক মালিকানা দাবির অসংগতি :-

যদি শামসুল হক ভূঁইয়া প্রতিষ্ঠানের একমাত্র মালিক হন, তাহলে কেন তিনি ২০০৩-২০১৩ সালের মধ্যে মোঃ হোসেন ভূঁইয়ার সঙ্গে যৌথ স্বাক্ষরে দোকান বিক্রির কাগজপত্র স্বাক্ষর করেছিলেন?

এই যৌথ স্বাক্ষর থাকা সত্ত্বেও এখন একক মালিকানা দাবি করা আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে।

এছাড়াও, পরবর্তীতে কীভাবে তিনি শত শত দলিল এককভাবে তৈরি করে দোকান বিক্রি করলেন, তা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

এটি স্পষ্ট যে, শামসুল হক ভূঁইয়া প্রথমে মোঃ হোসেন ভূঁইয়ার স্বাক্ষর ব্যবহার করে দোকান বিক্রি করেন, পরে একক স্বাক্ষরে নতুন দলিল তৈরি করে প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।

ভুয়া রিহ্যাব সদস্যপদ ও প্রতারণা :-

২০১০ সালের ৩ আগস্ট এস.আর. ট্রেডিং-এর কোম্পানি সচিব মোঃ রবিউল্লাহ সরকার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে দাবি করা হয় যে, প্রতিষ্ঠানটি রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (REHAB)-এর সদস্য।

কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা গেছে, রিহ্যাবের সদস্য তালিকায় এস.আর. ট্রেডিং-এর নাম নেই।

তারা ভূঁইয়া এন্ড হক কোম্পানির নিবন্ধিত নম্বর (৬৯০/২০০৯) নিজেদের নম্বর হিসেবে ব্যবহার করছে, যা স্পষ্টতই প্রতারণা।

সরকারি জমি দখলের অভিযোগ :-

তদন্তে উঠে এসেছে যে সৈয়দপুর প্লাজার ৩৪০ শতক জমির মধ্যে প্রায় ১৯ শতকের বেশি সরকারি খাস জমি দখল করা হয়েছে।

এই ১৯ শতক জায়গার মধ্যে ১১টি সরকারি খাস দোকানঘর রয়েছে, যা শামসুল হক ভূঁইয়া জোরপূর্বক দখল করে রেখেছেন।

স্থানীয়রা প্রশাসনের কাছে এস.আর. ট্রেডিং-এর বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

বিক্রিত দোকানগুলোর বৈধতা নিয়ে শঙ্কা :-

ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, কারণ এস.আর. ট্রেডিং-এর বিক্রিত দোকানগুলোর কোনো বৈধ দলিল নেই।

ফলে দোকান মালিকরা ভবিষ্যতে আইনি জটিলতার সম্মুখীন হতে পারেন।

গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে অপপ্রচার :-

এস.আর. ট্রেডিং-এর প্রকল্প পরিচালক গুলজার আহমেদ ও সিনিয়র ম্যানেজার নুর ই এলাহী গত ৪ ফেব্রুয়ারি দৈনিক আলাপন পত্রিকায় একটি প্রতিবাদ লিপি প্রকাশ করেছেন।

গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিমূলক অভিযোগ তোলা হয়েছে।
মূলত, তাদের অবৈধ সম্পদ, ৮০-৯০ কোটি টাকার ভ্যাট-ট্যাক্স ফাঁকি, ১৯ শতক সরকারি জমি দখল ও ১৫০০-১৬০০ দোকান রেজিস্ট্রি না করার তথ্য প্রকাশ পাওয়ায় তারা এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে।

অবৈধ সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখার দাবি :-

গুলজার আহমেদ একসময় পেপসি কোম্পানির ডিলার ও আইসক্রিম বিক্রেতা ছিলেন।

প্রশ্ন উঠেছে, তিনি কীভাবে রাতারাতি প্রায় এক কোটি টাকার গাড়ি ও ৪০-৫০ কোটি টাকার সম্পদের মালিক হলেন?

সৈয়দপুরের জনগণ প্রশাসনের কাছে এস.আর. ট্রেডিং-এর প্রতারণামূলক কার্যক্রম ও অবৈধ সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগীদের করণীয় :-

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি বিধি অনুযায়ী রেজিস্ট্রার্ড দলিল ছাড়া দোকান বিক্রি সম্পূর্ণ অবৈধ।

ভুক্তভোগীরা চাইলে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), রাজউক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা নিতে পারেন।

ইতিমধ্যে সৈয়দপুর প্লাজার দোকান মালিক সমিতি ও ব্যবসায়ী সমিতি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তরগুলোতে সৈয়দপুর প্লাজা,এস,আর,ট্রেডিং নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত পত্রিকা গুলো জমা দিয়েছে।

সরকারি পদক্ষেপের দাবি :-

এই বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন, রাজউক ও দুদক যদি দ্রুত তদন্ত চালিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়, তাহলে অনেক সাধারণ মানুষ প্রতারিত হওয়া থেকে রক্ষা পাবে।

(এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত সব তথ্য-প্রমাণ ও দলিলপত্র পত্রিকা অফিসে সংরক্ষিত আছে )

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর