
রাজধানীর মালিবাগ বাজারে বিভিন্ন পণ্য কেনার পর সয়াবিন তেল কিনতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন বেসরকারি চাকরিজীবী খাদেমুল ইসলাম। তিনি ৪/৫ টি দোকান ঘুরে কোথাও পাননি সয়াবিন তেল। পরে একটি দোকানে এক লিটারের একটি তেল পেলেও গায়ের লেখা দামের চেয়ে ১০টা বেশি চেয়েছে দোকানি।
বিষয়টি নিয়ে খাদেমুল ইসলাম বলেন, বাজারে সয়াবিন তেল নেই। দোকানে খুঁজে পাচ্ছি না, হয়তোবা তাদের কাছে থেকেও না বলছে। দামও বেশি চাচ্ছে।
শনিবার ৭ ডিসেম্বর রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে বেশিরভাগ দোকানেই সয়াবিন তেল নেই বলে জানাচ্ছেন দোকানিরা। তবে কিছু কিছু দোকানে অল্প কিছু বোতল করে সয়াবিন তেল থাকলেও গায়ে লেখা দামের চেয়ে বেশি দাম চাওয়া হচ্ছে।
রাজধানীর মগবাজারের একটি দোকান থেকে ২ লিটারের সয়াবিন তেল, গায়ের দামের চেয়ে বেশি দামে ৩৪০ টাকায় কিনেছেন মনোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তি
তিনি বলেন, প্রথমে ৩/৪ টি দোকান ঘুরে সয়াবিন তেল পাইনি পরে একটি দোকানে পেলাম তাও গায়ের রেটের চেয়ে ৬ টাকা বেশি দামে কিনতে হলো।
সয়াবিনের দাম নিয়ে কারওয়ান বাজারের পাইকারি দোকানি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বিভিন্ন কোম্পানি তাদের তেল সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম বোতলজাত সয়াবিন তেলের। খুচরা বিক্রেতারা কাস্টমারদের চাহিদার তুলনায় তেল পাচ্ছে না, তাই তাদের দোকানে তেলের সংকট দেখা যাচ্ছে। ক্রেতারও সয়াবিন কিনতে গিয়ে পাচ্ছে না। অনেক কোম্পানি আবার তেলের সঙ্গে অন্যান্য পণ্য কেনার শর্ত জুড়ে দিচ্ছে।
তবে এ বিষয়ে একাধিক প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও বাজারে তেল না পাওয়া বা কোম্পানি থেকে সরবরাহ নিয়ে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে দেশে অপরিশোধিত সয়াবিন ও পাম তেল আমদানি হয়েছে ৩ লাখ ৬৮ হাজার টন। গত বছরের একই সময়ে এই আমদানির পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৬০ হাজার টন। সে হিসেবে আমদানি কমেছে প্রায় ২০ শতাংশ। এছাড়া বিভিন্ন কারণে এবার আমদানিকারকের সংখ্যাও কমেছে।